নাছির উদ্দিন সোহেল, সিবিএন;
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। ঘরবাড়ি, সড়ক যোগাযোগ ও বিশুদ্ধ পানির উৎস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মানবিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’ (ভিবিডি)।
সোমবার (১৩ জুলাই) ভিবিডি কক্সবাজার জেলা এবং ভিবিডি পেকুয়া উপজেলা টিমের যৌথ উদ্যোগে বন্যাকবলিত এলাকায় জরুরি খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রায় ৪০০ পানিবন্দি মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও নিরাপদ পানীয় পানি পৌঁছে দেন সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা।
আয়োজকরা জানান, আকস্মিক বন্যায় অনেক পরিবার রান্নার সুযোগ হারিয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা হিসেবে রান্না করা খাবার প্রস্তুত করে দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট বিবেচনায় নিরাপদ পানীয় পানিও বিতরণ করা হয়েছে।
প্রতিকূল আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা ও দুর্গম পথ অতিক্রম করে ভিবিডির স্বেচ্ছাসেবকেরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে এই সহায়তা পৌঁছে দেন। তাদের এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি এনে দিয়েছে।
ভিবিডি চট্টগ্রাম বিভাগীয় বোর্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সবুজ বলেন, “সংকট যত গভীরই হোক, মানবতার শক্তির ওপর আমাদের অগাধ বিশ্বাস রয়েছে। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সময়মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ সবসময় মানবিক সেবায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ভবিষ্যতেও দেশের যেকোনো দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকবে।”
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পেকুয়াসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় এখনো বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও রয়ে গেছে। এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার কারণে অনেক পরিবার এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। এমন সংকটময় সময়ে ভিবিডির তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের দ্রুত মানবিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে দুর্গত মানুষের কষ্ট অনেকটাই কমে আসবে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের মতে, তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করে তুলছে।
